আজ মা দিবস- 10-05-2020
বিদেশে আছেন, নিভৃত একা, মনটা ভালো নেই, জানালা দিয়ে আকাশ দেখছেন; আপনার মনটা ভালো নেই, কাকে মনে পড়ছে?
করোনার ভয়ে ভীত বা করোনা হয়েছে আপনার, কার উৎকণ্ঠাভরা মুখটা ভেসে উঠছে আপনার অন্তর্দৃষ্টিতে সর্বপ্রথম? “অবশ্যই মায়াভরা মা”।
আচ্ছা আসুন এবার জেনে নিই কীভাবে জন্ম হলো "মা দিবস" এর!
আইরিশ একটা প্রবাদ আছে মা কে নিয়ে--A man loves his sweetheart the most,
his wife the best, but his mother the longest...মা দিবসের ইতিহাস
কিন্তু উক্ত প্রবাদের শেষ শব্দসমষ্টির জলন্ত উদাহরণ। অর্থাৎ একজন প্রেমিক
মাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
মা দিবসের প্রয়োজনিয়তা বিশ্ব উপলব্ধি করতে শুরু করে ১৮৭২ সালের দিকে যথারীতি মার্কিনিদের নেতৃত্বে।
মা দিবসকে জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণার আন্দোলনে নেতৃত্ব
দেন মা প্রেমিক এক মার্কিন যুবক।তাঁর নাম Anna Jarvis । তার মা ছিলেন একজন
peace activist বা শান্তিকর্মী। বিভিন্ন যুদ্ধে আহত সৈনিকদের দেখে যাঁর
হৃদয় কাঁদতো।তাদের সেবা করে সুস্হ করে তুলাই ছিল যাঁর মহান ব্রত।
এমন মাকে পেয়ে Anna Jarvis এর বুক ছিল গর্বে ভরা, চোখ দুটো ছিল স্বপ্নে
ভরা। মাথার উপর ছাতা পেয়ে হয়ে উঠেন নির্ভার। জীবন ছিল আর দশটা যুবকের
মতোই চঞ্চল।
হঠাৎ একদিন তাঁর স্বপ্নের আকাশ ভরে গেল কুয়াশায়।যাঁকে
আশ্রয় করে তাঁর প্রতিদিনের দুষ্টুমি চলতো, খেতে বসলে ছেলের পাতে তরকারি
একটু কম পড়েছে কিনা এটা ভেবে তটস্হ থাকতো, সেই মা মুহুর্তেই সব বন্ধন
ছিন্ন করে চলে গেল দূরে বহুদূরে,না ফেরার দেশে। সেটা ১৯০৫ সাল। স্তব্দ হয়ে
গেলে ছেলেটির সমস্ত চঞ্চলতা! মুখে হাসি নেই, চোখে স্বপ্ন নেই! বুকভরা
নির্ভারতা নেই! তাঁর আকাশের ছাদ ভেঙে পড়েছে! দুষ্টু ছেলেটি আর দুষ্টুমি
করেনা। সারাদিন রোদে ঘেমে ঘরে ফিরে আর কাউকে মা বলে ডাকেনা।।মাও আর ডাকেনা
খোকা আয় একটা পাকা পেঁয়ারা রেখেছি তোর জন্য।
মায়ের স্মৃতির তাড়নায় দিশেহারা ছেলেটি পণ করলো মা কে বাঁচিয়ে রাখার, হৃদয়ে লালন করার, প্রতিটা পলক, প্রতিটা মুহুর্ত।
এরপর তাঁর নিজ শহর পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় মায়ের নামে স্হাপন করলো একটি স্মৃতিসৌধ। শুরু করলো আন্দোলন "মা দিবস" উদযাপন ও সেদিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণার।
তাঁর আন্দোলনের মূলমন্ত্র ছিল the person who
has done for you more than any one in the world . তাঁর এ আন্দোলন মাতৃ-
প্রেমিকদের মাঝে সাড়া ফেললো জাদুর মতো।
মায়ের প্রতি ভালোবাসার সুর
মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লো পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। চির অচেনা
মানুষেরা মুহুর্তেই আপন করে নিলো পরস্পরকে। মায়ের ভালোবাসার জাদুর মতোই
বেগবান হতে থাকে এ আন্দোলন।
তবে পরবর্তী ঘটনাগুলো সুখকর ছিলনা।
১৯০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালনের বিল উত্থাপন করা হয় মার্কিন
কংগ্রেসে। বিলটি যতো সহজে পাস হওয়ার কথা ছিল আসলে ততো সহজে হয়নি।বিলটি
উপস্থাপনের পর অনেকেই এটা নিয়ে হাসি- তামাশা পর্যন্ত করেছে। এমনকি কেউ কেউ
এও বলেছে তাহলেতো "mother in law দিবসেরও প্রয়োজন হবে"। আসলে উপরের লোকের
নিচের লোকদের নিম্ন দৃষ্টিতে তাকানোটা বোধহয় সৃষ্টির আদি হতেই বিদ্যমান!
অবশেষে ৩ বছর পর ১৯১১ সালে May মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি ছুটির দিন ও
তা উদযাপনের ঘোষণা আসে এবং ১৯১৪ সালে ততকালিন President Woodrow Wilson মা
দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উদযাপনের ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। বিজয়
হয় মায়ের।
এজন্য আমরা বলি "আমি জিতলে জিতে যায় মা"।
এ ভাবেই
মাকে আনু্ষ্ঠানিকভাবে ভালোবাসা প্রদর্শনের অধিকার অর্জন করে বিশ্ববাসী।
আসলে মাকে নিয়ে সৃষ্ট কোন বাধাঁই বাধাঁ নয়।কারণ সব বাধাই হার মানে মায়ের
ভালোবাসায়।
আসুন মাকে ভালোবাসি। শুধু মা দিবসেই নয়। প্রতিটা ক্ষণ।প্রতিটা মুহুর্ত। দুনিয়ার সব মা জাগ্রত থাক সব সন্তানের হৃদয়ে!
প্রতিদিন জিতে যাক মা! দুনিয়ার সব মাকে আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।।



একটি মন্তব্য করুন:
0 মন্তব্য: