ছোট গল্প "ক্লেপটোম্যানিয়া"
লিখেছেনঃ ফাহিমা আক্তার
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মাথা নিচু করে অপরাধীর মত কাজল দাঁড়িয়ে আছে। পাশে তার ফুপা চেয়ারে বসে অনবরত পা নাড়াচ্ছেন।ফুপু দাঁড়িয়ে আছে কাজলের মুখোমুখি।তিনি অবিরাম কাজলকে জেড়া করে যাচ্ছেন।কিন্তু কাজল কোন উত্তর দিচ্ছে না।এমন কি মুখ তুলে পর্যন্ত তাকাচ্ছে না। ফুপু মালেকা বেগম ধৈর্য্যের শেষ সীমায় পৌছে গেলেন।
তিনি চিৎকার করে উঠলেন-
--- তাহলে বলবি না ? মান ইজ্জত কিছুইতো রাখলি না।কত আশা নিয়ে তোকে বাসায় এনে রাখলাম।এটা কেন করলি তুই? জবাব দে..
--- থাক আর জবাবের দরকার নেই। তুমি এবার থামতো!
কাজলের ফুপা আসলাম সাহেব ঠাণ্ডা গলায় বলে উঠলেন।তারপর মাহির নাম ধরে ডাকলেন।
--- মাহি ভেতরে এসো।
মাহি ওর মায়ের সাথে দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল।ডাক শোনা মাত্র পর্দা ঠেলে ভেতরে ঢুকল । পেছন পেছন মাহির মা মনোও আসলেন।
--- তুমি বোতাম গুলো কোথা থেকে পেয়েছ?
--- এটা আমার বাবার বোতাম।আমি মায়ের কাছ থেকে নিয়েছি।
--- বোতামের কথা কাজল কিভাবে জানলো?
--- কাজল মামা কে আমিই দেখিয়েছি!
মাহির জন্মের ছ'মাস পর মাহির বাবা মারা যায়।মাহির কাছে তার বাবার তেমন কোন স্মৃতি চিহ্ন নেই।শুধু একখানা পাসপোর্ট সাইজের সাদা কালো ছবি আর এই পাঞ্জাবীর সোনার বোতাম গুলো ছাড়া।একদিন মায়ের কাছে বাবার কথা জানতে চাইলে তার মা এদুটো বের করে দেখায়।সোনালি গোলাপ আকৃতির ফুলের মাঝ খানে মেরুন স্টোন বসানো। ঝুলানো চেনে বোতাম গুলো একসাথে আটকে আছে।দেখে মাহি মুগ্ধ হয়ে যায়।মাকে হঠাৎ বলে ফেলে বড় হলে এগুলো সে পাঞ্জাবীতে লাগিয়ে পড়বে।মা মিষ্টি হেসে বলে ঠিক আছে পড়া লেখা করে আগে বড় হও তার পর দেখা যাবে।
এরপর থেকে যখন বাবা নামের শব্দটা মাহির মনে আসে তখন সে ছবি আর বোতাম গুলো মায়ের কাছ থেকে চেয়ে নেয়।ভালোবাসা মিশ্রিত অবাক বিস্ময়ে অপলক ছবি খানার দিকে চেয়ে থাকে আর পরম মমতায় বোতাম গুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে। যেন এগুলোই তার বাবা!
গত পরশু মাহি ছবি ও বোতামগুলো দেখছিল।এমন সময় কাজল রুমে আসে।মাহি কি দেখছে জানতে চাইলে জিনিস গুলো দেখিয়ে বাবার কথা বলে। কাজল ছবি খানার দিকে চোখ বুলিয়ে মাহিকে সান্ত্বনা দেয়।একবার বোতাম গুলো হাতেও নিয়ে দেখে।
কাজল মামা রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মাহি মায়ের ব্যাগে জিনিস দুটি রেখে নানী মালেকা বেগমের ডাকে খেতে চলে যায়।গত কাল স্কুল থেকে ফিরে যখন মাহি বিশ্রাম নিচ্ছিল তখন মনে পড়ে বন্ধু হিমেলের কথা।হিমেল আজ না খেয়ে স্কুলে আসছিল।টিফিনের সময় ওর বাবা খাবার নিয়ে আসে।তারপর হিমেলকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মুখে খাবার তুলে দেয়।এ দৃশ্য দূরে থেকে দেখে মাহির বুকটা কেমন খাঁ খাঁ করে ওঠে।নিজের ছবি বাবার কথা মনে পরে খুব।আর তক্ষোনি মায়ের কাছে না চেয়ে নিজেই ব্যাগ থেকে ছবি আর বোতাম গুলো বের করতে যায়। ব্যাগে ছবি খানা পেলেও পুরো ব্যাগ ঘেঁটেও বোতামের কোন হদিস পায় না।
মায়ের কাছে ছুটে যায় মাহি।বোতাম হারানোর কথা শুনে মায়ের মুখটা কেমন মলিন হয়ে যায়।মায়ের বিমর্ষ মুখ খানার দিকে তাকিয়ে মাহির ভীষণ কান্না পায়।দিশেহারা চোখে মা জানতে চায় বোতাম গুলো মাহি কাউকে দেখিয়েছে কিনা।মাহি কাজল মামার কথা বলে।
মাহির মা মনোর আর বুঝতে বাকি থাকেনা এটা যে কাজলই কাজ।
কাজল মনোর মামীর বড় ভায়ের ছেলে।এখান থেকে কলেজে পড়ে।গত ছমাস ধরে কাজলকে দেখছে সে।ছেলেটার ভাবগতি খুব একটা ভাল লাগে না তার।সেদিন দরজার সামনে দিয়ে যেতে মামীর টেলিফোনে বলা কথা গুলো শুনেছিল মনো ।মামী কাকে যেন উচ্ছ্বসিত ভাবে বলছে কাজল এখানে এসে ভাল হয়ে গেছে।তার হাত টানের অভ্যেসটা নাকি এখন আর নেই।কথাটা শুনে কাজল সম্পর্কে মনো যা বুঝার তা বুঝে যায়।এরপর থেকে ছেলে মাহিকে সে কাজলের থেকে দূরে দূরে রাখে।
আসলাম সাহেব মাহিকে আর কিছু বললেন না।কাজের মেয়ে নছিরনকে ডাকেন।খালুজান যে তাকে ডাকবেন নছিরন যেন জানেই।আসলে ঘরে কি হচ্ছে তা শুনার জন্য সে এদিকে কান খাঁড়া করেই ছিল।তাই ডাক শুনেই এক দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বসার রুমে ছুটে আসে যদিও সে খালুজানকে ভীষণ ভয় পায়।
---খালুজান আমারে ডাকছেন?
---হু!তুই সোনার তৈরি কোন বোতাম পেয়েছিস?
--- আল্লার কসম খালুজান আমি নেই নাই।
--- নেয়ার কথা বলিনি জানিস কিনা তাই বল!
--- এই মাথা ছুঁয়ে বলছি আমি দেহি নাই!
বলেই নছিরন কাঁন্না জুড়ে দেয় ।
--- তাহলে এত ভয় পাচ্ছিস কেন?
--- খালুজান আপনেরে দেখলেই আমার কেমুন যেন ডর লাগে!সত্যি কইতাছি আমি কিচ্ছু জানি না।
আসলাম সাহেব সবার দিকে এক ঝলক চোখ বুলিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-
--- হুম! বোতাম সম্পর্কে কেউ কিছু জানো না।তবে কি বোতামের পা গজিয়েছে হেঁটে হেঁটে ভ্রমনে বেরিয়েছে? নাকি পাখা গজিয়েছে যেখানে খুশি সেখানে উড়ে গেছে?
আসলাম সাহেবের হুঙ্কারে সবাই ভয়ে কেমন জরোসরো হয়ে গেল।তিনি আবার বললেন-
---আমি জানি বাসার লোকজনই বোতাম গুলো সরিয়েছে।রাত পর্যন্ত সময় দিলাম যে নিয়েছে সে যেন জায়গার জিনিস জায়গায় রেখে আসে।নইলে আমি পুলিশ ডাকবো!
--- এই সামান্য কারণে তুমি বাড়িতে পুলিশ ডাকবে?
মালেকা বেগম বিস্ফোরিত চোখে আসালাম সাহেবের দিকে তাকান।
--- কেউ স্বীকার না করলে তাই করবো!
--- নিজের মান সম্মানের দিকে তাকাবে না?
--- চোর পুষে রাখলে মান সম্মান বুঝি খুব বাড়বে?
মালেকা বেগম আর কিছু বলেন না। হন হনিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যান।
--- খালুজান আমার ভাত রুম পাইছে আমি যাই?
নছিরন উসখুস করতে লাগলো।আসলাম সাহেব কিছু বললেন না।শুধু লাল চোখে নছিরনের দিকে তাকান। নছিরন এক ঝলক সে দিকে তাকিয়েই ছুটে বেড়িয়ে যায়।
এবার আসলাম সাহেব কাজলের দিকে ফিরে বলেন
--- তুমি আবার কলা গাছের মত দাঁড়িয়ে রইলে কেন?
যাও রুমে যাও। এরপর মনোর দিকে ফিরে নরম স্বরে বলেন--
---যাও মা নানা ভাই কে নিয়ে তুমিও যাও।
বোনের স্বামীহারা অসহায় মেয়েটির প্রতি আসলাম সাহেবের মনে অনেক মায়া।মেয়েটা খুবই ধীর স্হির শান্ত স্বভারের।আসলাম সাহেব ভাগ্নিকে ভীষণ স্নেহ করেন,ভালোবাসেন।তাই তো ভাইয়ের সংসারে ওকে নিয়ে গন্ডগোল বাঁধলে নিজের কাছে নিয়ে আসেন।স্ত্রী মালেকা বেগম প্রথমে আপত্তি করলেও যখন আসলাম সাহেব বুঝালেন তখন কিছু আর বলেননি।শুধু নিজের ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে আসলেন এখান থেকে পড়াশোনা করাবেন বলে।আসলাম সাহেবও কাজলের ব্যাপারে কোন কথা বলেননি।
মনো বুদ্ধিমতি ও কর্মঠ মেয়ে।কদিনেই কাজের মাধ্যমে মামীর সংসারকে কেমন আপন করে নিয়েছে।মনোর প্রতি মালেকা বেগমের কোন স্নেহ না থাকলেও রাগও নেই। মনো মামীর তার প্রতি করা আচরণ বুঝতে পারে কিন্তু কিছু মনে করেনা।এখানে থেকে খেয়ে ছেলেকে পড়াতে পারছে এটাইবা কম কিসের।
সবাই চলে গেলে আসলাম সাহেব থম মেরে কিছুক্ষণ চেয়ারে বসে রইলেন ।তার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।মনে মনে কি যেন মেলাতে চাইছেন।কিন্তু হিসেবে কেমন জানি গরমিল হয়ে যাচ্ছে। হিসেব সহজ অথচ মিলছে না। আসলাম সাহেবের কেমন অস্বস্তি লাগছে। হঠাৎ তিনি চেয়ার থেকে উঠে পড়লেন তারপর টুপিখানা নিয়ে জুম্মা পড়তে মসজিদের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেলেন।
আসলাম সাহেব নামাজ পড়ে এসে সবার সাথে বসে দুপুরের খাবার খেলেন ।সপ্তাহের একমাত্র শুক্রবারেই তিনি দুপুরের খাবার সবার সাথে বসে খেতে পারেন। আজ যেন খাবারে কারো কোন মন নেই।কোন রকম কথাবার্তা ছাড়াই সবাই খেয়ে যার যার রুমে চলে যায়।
ছুটির এই দিনে আসলাম সাহেব দুপুরে খাওয়ার পর বিছানায় একটু গড়িয়ে নেন পাশে স্ত্রীও থাকেন।আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না।তবে অন্যদিনের মত মালেকা বেগম বিছানায় আসলেন না।ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মাথায় কয়েকবার চিরুনী বুলিয়ে বারান্দায় চলে গেলেন।আসলাম সাহেব ভাবলেন ভাইয়ের ছেলের প্রতি কেউ চুরির আঙ্গুল তুললে স্বভাবতই তার মন ভালো থাকার কথা না। হয়তো মালেকা বেগমেরও সে কারণে মন ভাল নেই।একটু নিজের মত সময় কাটালে হয়তো ভালো লাগবে। আসলাম সাহেবও স্ত্রীকে কিছু আর বললেন না।পাশ ফিরে শুয়ে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ছাড়লেন শুধু। কিন্তু কাজল কেন চুরির কথা স্বীকার করল না সেটাই ভাববার বিষয়।একটু পরেই ঘুমে আসলাম সাহেবের দুচোখ বুজে এল।
বিকেলে চা নাস্তার টেবিলেও আসলাম সাহেবের সাথে মালেকা বেগমের তেমন কোন কথা হল না। যদিও আসলাম সাহেবকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে তিনি পাশের চেয়ারে বসে কুসিকাঁটা বুনছিলেন। কিন্তু হু হাঁ ছাড়া কোন কথা বলেনি।আসলাম সাহেব অবশ্য চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে এটা সেটা বলছিলেন। তবে মালেকা বেগম তেমন সাড়া না দেওয়ায় তিনিও চুপ হয়ে যান।আনমনে দোতলার বারান্দা থেকে চোখ রাখেন নিচে খোলা মাঠে খেলা রত বাচ্চাদের দিকে।বাচ্চাদের দেখলে তার ভেতর থেকে একটা হাহাকার করা গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।দীর্ঘ বিশ বছরেরর দাম্পত্য জীবনে তাদের কোল যে এখনও খালিই রয়ে গেল!এখন পর্যন্ত কোন সন্তানের মুখ দেখেনি তারা।দুজনেই চিকিৎসার কোন ত্রুটি করেননি কিন্তু কেন জানি সৃষ্টিকর্তা তাদের প্রতি সুপ্রসন্ন হননি।
দশ বছরের মাহি লাল গেঞ্জি পড়ে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে বল নিয়ে ছুটাছুটি করছে মাঠের এ মাথা থেকে সে মাথা।ছেলেটাকে কি যে ভাল লাগে আসলাম সাহেবের।মিষ্টি চেহারা। মায়ের মত শান্তশিষ্ট। আবার বয়েসের কারণে চঞ্চল।অথচ ছেলেটার কি দূর্ভাগ্য অল্প বয়েসেই বাবাকে হারিয়েছে।
এক সময় আসলাম সাহেবের চোখ যায় মাঠের কোনার দিকে।ওখানে কাজল বসে আছে কয়েক জন ছেলের সাথে।একটা ছেলেকে তিনি বারান্দা থেকেও চিনতে পারলেন।শুনেছেন ছেলেটার স্বভাব চরিত্র ভাল না।নেশাটেসা করে।মাস্তানিও নাকি করে।তবে এলাকায় না। অন্য এলাকায় গিয়ে।কিন্তু ছেলেটার সাথে কাজলের মেশাটা আসলাম সাহেবের কাছে ভাল লাগছে না।তাছাড়া কাজল কে একদিন তিনি মুড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকতেও দেখেছেন।সেদিন কিছু বলেননি।কিন্তু আর চুপ না থেকে কাজলকে নিয়ে বসতে হবে।দেরি হয়ে গেলে খারাপ কিছুও হয়ে যেতে পারে আসলাম সাহেব ভাবলেন।
কাজল আঁড়চোখে ফুপাকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখে তার বুকের ভেতর ভয় ভয় করছে।ফুপা মানুষটা খারাপ না।কিন্তু যাদের সাথে বসে কাজল আড্ডা দিচ্ছে ওদের স্বভাব চরিত্র খুব একটা ভাল না যে তা এলাকার সবাই জানে।যে কোন সচেতন গার্ডিয়ানই ওদের সাথে মেশাটা আপত্তি করবে।আর কাজলেরও ভাগ্য এখানে এসে এদের সাথেই বন্ধুত্ব হয়েছে ।এর মধ্যে ওদের কিছু বদ অভ্যাস কাজলের মাঝেও ঢুকে গেছে।তবে কাজলের ওদের সাথে বন্ধুত্বটা এতদিন ফুপার বাসার কেউই জানতে পারেনি।কারণ কাজল শুধু কলেজ থেকে ফেরার পথে এলাকার বাইরে ওদের সাথে আড্ডা দেয়।
আজ মাহির বাবার বোতাম হারানো সাথে ফুপার কঠিন হুঙ্কারে কাজল একটু চিন্তিত। তাই ভেবেছে আজ আর এলাকার বাইরে যাবে না।বিকেল টুকু মাঠে বসেই কাটাবে।তাই বসে ছিল।কিন্তু এই লাফাঙ্গার গুলো কোথথেকে হঠাৎ এসে এখানে হাজির।আর কপালটাও মন্দ কত আজকেই ফুপার চোখে ধরা খেল কাজল।
রাতে বিছানায় এসে আসলাম সাহেব দেখেন মালেকা বেগম মশারি না টানিয়ে কাত হয়ে শুয়ে আছে।তিনি মশারি টানিয়ে লাইট নিভিয়ে দিলেন।তারপর বালিশে মাথা রাখার আগে স্ত্রীর দিকে ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করেন ঘুমিয়েছে কিনা।দেখেন মালেকা বেগম তখনও ঘুমাননি অপলক চেয়ে আছে।স্ত্রীর মাথায় হাত রাখেন আসলাম সাহেব।মালেকা বেগম স্বামীর দিকে মুখ ফিরিয়ে বিহ্বল ভাবে তাকায়।স্ত্রীর মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে আসলাম সাহেব নিচু স্বরে বলেন -"বোতাম গুলো কোথায় রেখেছ মালেকা? আমাকে দাও আমি চুপ করে রেখে আসব।কেউ জানতেও পারবে না।"
মালেকা বেগম একটু চমকে উঠলেন যেন।কয়েক সেকেণ্ড থম ধরে থাকলেন।তারপর স্বামীর দিকে ফিরে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে উঠলেন।"আমাকে মাফ করে দাও,বিশ্বাস কর আমি ইচ্ছে করে করিনি। বোতাম গুলো দেখে শত চেষ্টা করেও লোভ সামলাতে পারিনি। সেদিন নসিরন গোসলে থাকায় আমি মাহিকে খেতে ডাকতে যাই। দেখি মাহি একটা ছবির মধ্যে চুমু দিচ্ছে ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর বোতাম গুলো আরেক হাতে ধরে আছে।বোতাম গুলো দেখেই মনের ভেতর কি যে হল হাতে না আসা পর্যন্ত স্হির থাকতে পারছিলাম না।তাই মাহি জিনিস গুলি কোথায় রাখে আড়াল থেকে দেখে নেই।তারপর মাহি রুম থেকে বের হলে আমি চুপ করে নিয়ে আসি।আনার পর থেকে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না।অপরাধ বোধ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। বলেই মালেকা বেগম আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।
আসলাম সাহেব স্ত্রীর মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিলেন আর বললেন-"আমি জানি তুমি ইচ্ছাকৃত করনি।আর তোমাকে আমি বিশ্বাসও করি।দয়া করে তুমি কেঁদ না।"
আসলাম সাহেব গোপনে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়েন।তিনি জানেন মালেকা বেগমের ক্লেপটোম্যানিয়া নামের এক ধরনের মানসিক রোগ আছে।এ রোগের লক্ষণ সবার অলক্ষে যে কোন জিনিস চুরি করা।জিনিসটা প্রয়োজনীয় হোক কিংবা অপ্রয়োজনীয় যাই হোক। আর একবার চোখে লেগে গেলে সেটা যে করেই হোক তাকে পাওয়া চাই।তারপর সেটি পাওয়ার পর আবার অপরাধবোধে ভোগে। যেমন এখন মালেকা বেগমের হচ্ছে।
অনেক দিন আগে চুরি করে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার পর আসলাম সাহেব স্ত্রীর চিকিৎসা ও করিয়েছেন।চিকিৎসার পর ভেবেছিলেন পুরোপুরি ভাল হয়ে গেছে।কিন্তু এত দিন পর এ ঘটনায় তিনি অনেকটা তব্দার মত খেয়ে গেছেন।কি করবেন ঠিক বুঝতে পারছিলেন না।
সকালে সবার সাথে কথা বলার পর আসলাম সাহেবের ভেতর একবার কু ডেকে উঠেছিল। কিন্তু তখন তিনি পাত্তা দেন নি।সন্ধ্যার পর মালেকা বেগমের আড়ালে তিনি যখন কাজল ও নসিরন কে আবারও জেড়া করলেন এবং অনেক হুমকি ধামকির পরও যখন ওদের কাছ থেকে কোন তথ্য বের করতে পরলেন না তখনি তিনি বুঝে গিয়েছিলেন কাজটা কে করতে পারে।
আসলাম সাহেবের বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে একটু পর পর বালিকাদের মত মালেকা বেগম কেঁপে কেঁপে উঠছেন।তিনি স্ত্রীকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।মনে মনে ভাবলেন তোমার এই কষ্ট আমার একদম সহ্য হচ্ছে না।আবার আমি তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।তুমি একদমই চিন্তা করো না৷স্ত্রীর কষ্টে আসলাম সাহেবের গলাটাও কেমন ধরে এল।
~~সমাপ্ত~~
সম্মানিত পাঠক,
সংবাদবিডি ২৪ অনলাইন
পত্রিকার গল্প, উপন্যাস ও কবিতা বিভাগে প্রকাশের জন্য আপনার লেখা আহ্বান
করা যাচ্ছে। উপযুক্ত হলে আপনার লেখাটিও পাবলিশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।
আগ্রহীরা উক্ত কবিতা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরন
করতে পারেন। ই-মেইল- songbadbd24.net@gmail.com অথবা আমাদের ফেসবুক পেজে মেসেজ করতে পারেন।
ধন্যবাদ আমাদের
ওয়েবসাইটের পাঠক হওয়ার জন্য।


একটি মন্তব্য করুন:
0 মন্তব্য: