অনলাইন ডেস্ক: করোনা মহামারীতে আজ সারা
পৃথিবীর মানুষ আতঙ্কিত। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী,
বিশ্বে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২,৭৬,৪৬২ জন কোভিড-১৯ খ্যাত নোভেল করোনা ভাইরাস
দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১,৪১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। কেউই জানে
না, এ পরিস্থিতি আরও কত দিন অব্যাহত থাকবে।
এমনই এক ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে নতুন আরেক
দুঃসংবাদ দিলো মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা। আসছে ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর
কক্ষপথের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাবে একটি শক্তিশালী গ্রহাণু। নাসা এ
গ্রহাণুটির নাম
গ্রহাণুটি যদিও সরাসরি পৃথিবীর ওপর আঘাত
হানবে না এবং পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে এ গ্রহাণুর দূরত্ব হবে আনুমানিক চার লাখ
মাইলের মতো। যা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের ১৬ গুণেরও বেশি। যদিও পৃথিবীর
কক্ষপথের থেকে ৩.৯ লক্ষ মাইলের অভ্যন্তরে এ গ্রহাণুটি আসবে না কিন্তু এ
গ্রহাণুটির বিশাল আকৃতির জন্য এবং অত্যধিক গতির কারণে কিছুটা হলেও শঙ্কা
থেকে যায়।
আনুমানিক ১.১ থেকে ২.৫ মাইল ব্যাস বিশিষ্ট
এ গ্রহাণুটি ঘণ্টায় বিশ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ দিয়ে
প্রবাহিত হয়ে যাবে, যার প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসতে
পারে বলে কোনও কোনও বিজ্ঞানী আশঙ্কা করছেন।
এ গ্রহাণুর প্রভাবে পৃথিবীর অনেক জায়গা
সাময়িক সময়ের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং একই সঙ্গে সৃষ্ট
অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে পৃথিবীর এ সকল অঞ্চলে চাষাবাদের ক্ষেত্রেও একটি
বিশাল বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন।
যদিও নাসার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে
নিশ্চিত কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। বিভিন্ন কারণে একটি গ্রহাণু তার গতিপথের
পরিবর্তন করতে পারে। যেমন: চলার পথে কোনও একটি নির্দিষ্ট গ্রহের কিংবা বৃহৎ
উল্কাপিণ্ডের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্ৰভাবে একটি গ্রহাণু তার গতিপথ
পরিবর্তিত করতে পারে।
আবার ইয়ারকোভজি ইফেক্টের কথাও আমরা অনেকে
শুনেছি। অভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে একটি
গ্রহাণুর তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে গ্রহাণুটি ঘুরে যেতে পারে,
এমনকি কক্ষপথেরও পরিবর্তন করতে পারে। অর্থাৎ ইয়ারকোভজি ইফেক্ট। হয়তোবা
সাময়িকভাবে মনে হচ্ছে যে ৪০,০০০ মাইল বিশাল একটি দূরত্ব কিন্তু যে কোনও
সময়ের গতিপথের পরিবর্তন কিংবা তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিশেষ করে পৃথিবী পৃষ্ঠের
উপর একটি প্রভাব ফেলতে পারে।
পৃথিবীপৃষ্ঠে এরকম আরেকটি শক্তিশালী
গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী থেকে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটেছিলো। আসলে শুধু
ডাইনোসরই নয়, ধারণা করা হয় ওই গ্রহাণুর প্রভাবে সে সময় পৃথিবীর বিভিন্ন
স্থানে বসবাস করা প্রাণীকুলের শতকরা ৭০ ভাগ প্রজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে
গিয়েছিলো। বলা হয়, এ ঘটনাটি আজ থেকে আনুমানিক ৬৬ লাখ বছর পূর্বে ঘটেছিলো।
“ডাইনোসর কিলার অ্যাস্টোরয়েড” খ্যাত এ
গ্রহাণুর আঘাতে মেক্সিকোর ইয়োকাটোন দ্বীপের কাছে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি
হয়েছে যার ব্যাস স্থানভেদে ৬.৮ মাইল থেকে ৫০.৩ মাইল এবং ধারণা করা হয়, এ
গ্রহাণুর আঘাতের প্রভাবে পৃথিবীর সামগ্রিক জলবায়ুর এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত
হয়েছিলো।
Asteroid 52768 যদিও পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে
ন্যূনতম প্রায় চার লাখ মাইলের মতো দূরত্বে থাকবে, তবুও এর বিশাল আকৃতির
জন্য এবং একইসঙ্গে এর উচ্চ গতিসম্পন্ন ও বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের
উপস্থিতির কারণে কিছুটা হলেও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর


একটি মন্তব্য করুন:
0 মন্তব্য: